1. admin@dailygrambangla24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বাগমারায় জামায়াতের মাদকবিরোধী র‍্যালি বাগমারায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে হুমকির অভিযোগ ‎লালমনিরহাটে ​চলতি মাসেই উন্মুক্ত হচ্ছে নতুন রূপের নাগরিক সেবাকেন্দ্র ইউপি পরিষদ গুলো খালেদা জিয়ার হাত ধরেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন হয়েছে—–ত্রাণমন্ত্রী দুলু ‎ ‎লালমনিরহাটে ভুট্টা ক্ষেত থেকে শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার, রণক্ষেত্র ফলিমারী, এসপিসহ আহত ১৬, ওসি ক্লোজড, আটক ২ ‎ বাগমারায় ভবানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) হলেন আব্দুস সোবহান ‎লালমনিরহাট চেম্বারেের নির্বাচনে সভাপতি পদে সেলিম সবুজের জয় ‎ বাগমারায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন বাগমারায় ভিজিট ফ্রি চিকিৎসা সেবা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি ডা. আব্দুল বারী ‎প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে লালমনিরহাটে ব্র্যাকের অনন্য উদ্যোগ, ৪৩ পরিবারের মাঝে হাঁসের বাচ্চা বিতরণ ‎

মৃত্যু দূত উদ্ভিদ এবং কৃষির নিরব ঘাতক আগাছা পার্থেনিয়াম

দৈনিক গ্রামবাংলা ২৪ ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১৪২ বার পঠিত

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম আকাশ:

রাজশাহী সহ আশেপাশের জেলাগুলোতে ব্যাপকভাবে পার্থেনিয়াম আগাছা উদ্ভিদটি দেখা যাচ্ছে, এই পার্থেনিয়াম আগাছা উদ্ভিদটি প্রথমত দেখা গিয়েছিল চর অঞ্চলের এলাকাগুলোতে। কিন্তু মানুষ পার্থেনিয়াম আগাছা উদ্ভিদ সম্পর্কে সচেতন না হওয়ার কারনে চরাঞ্চল ছাড়িয়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন জেলা উপজেলা গুলোতে। পার্থেনিয়াম আগাছা একটি আক্রমণাত্মক ও উপনিবেশিক একবর্ষজীবি বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ যা উত্তর, মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকার সাব স্ট্রপিক্যাল অঞ্চল,মেক্সিকো, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এর উৎপত্তি । এই পার্থেনিয়াম আগাছা উদ্ভিদটি বাংলাদেশে নাকফুল নামে পরিচিত। এই আগাছা বেলে মাটি থেকে শুরু করে কর্দমাক্ত মাটিতে পর্যন্ত জন্মগ্রহণ করতে পারে। বছরে গ্রীষ্মকাল বৃষ্টিপাত ৫০০ মিলিমিটারের উপরে হলেও এ আগাছা দ্রুত বৃদ্ধি লাভ করতে পারে, এটি প্রশস্ত অভিযোজন, আলো এবং তাপ অসংবেদশীল, খরা সহনশীল, শক্তিশালী প্রতিযোগী ও অধিক বীজ উৎপাদনে সক্ষম, মাটির নিচে বীজের দীর্ঘায়ু, ছোট ও হালকা বীজ যা বহু দূরে বহনে সক্ষম। এই আগাছার বীজ বাতাসে, সেচের পানি, বীজ ও খাদ্যশস্য আমদানি, যানবাহন, গবাদি পশু, পাখি ইত্যাদির মাধ্যমে এক দেশ থেকে আরেক দেশে, এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে খুব দ্রুত গতিতে এটি ছড়িয়ে পড়ছে।

পার্থেনিয়াম আগাছা উদ্ভিদ, পতিত জমি,রাস্তার দুপাশে, এবং রাস্তা সংলগ্ন কৃষি জমি, এবং উদ্ভিদ দ্বারা কম আচ্ছাসিত জমিতে আক্রমণাত্মক উপনিবেশকারী আগাছা।

এ আগাছা ভারত থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা বাংলাদেশ, নেপাল, ও পাকিস্তান আন্তঃদেশীয় হাজার হাজার যানবাহন গবাদি পশুর মাধ্যমে বিস্তার লাভ করেছে। প্রফেসর ড.মোঃ রেজাউল করিম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহ ও ড. বাবু লাল নাথ.বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট. যশোর সর্বপ্রথম ২০০৮ সালে যশোর অঞ্চলে পার্থেনিয়াম আগাছা উদ্ভিদটি সনাক্ত করেন। পরবর্তীতে professor Steve Adkins,Queensland’s University. Australia এর নেতৃত্বে ড. বাব লাল নাথ, ড. মোঃ ইলিয়াস হোসেন ও শেখ মোহাম্মদ মাসুম পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সীমানা বেষ্টিত অঞ্চল বেনাপোল ও সোনা মসজিদ স্থলবন্দর সংলগ্ন যশোর ও রাজশাহী অঞ্চলের রাস্তার দু’পাশে পার্থেনিয়াম আগাছা উদ্ভিদ সনাক্ত করেন। বিশেষ করে ভারতের সীমানা বেষ্টিত অঞ্চলগুলোতে এর প্রাপ্যতা বেশি দেখা যায়। প্রথমত এই আগাছা রাস্তার দুপাশে দেখা গেল এখন ব্যাপক পরিমাণ ফসলের জমিতে বাড়ির আশেপাশে এ আগাছাটি দেখা যাচ্ছে, এ আগাছা এমনভাবে বিস্তার লাভ করছে যদি আমরা এই আগাছার সম্বন্ধে সচেতন না হই পরবর্তীতে আমাদের এই আগাছার নির্মূল করতে সমস্যা দেখা দিবে। এ আগাছাটি বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ থেকে ৪৫টি জেলাতে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়েছে বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে। এ আগাছাটি বছরে যে কোন প্রতিকূল পরিবেশে প্রায় তিনবার ফুল এবং ফল দিয়ে থাকে, এক একটি গাছে এ আগাছার ফুল থেকে ফল হয় সর্বনিম্ন ১৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লক্ষেরও অধিক। এ গাছটির সাধারণত এক থেকে দেড় মিটার উচ্চতা হয়ে থাকে। প্রথমত দেখতে ধনিয়া গাছের মতো, বড় হলে অসংখ্য শাখা ও ত্রিভুজোর মতো ছড়িয়ে পড়ে। কৃষিবিদরা এই আগাছা নিয়ে শংকিত, তারা এটিকে বিষাক্ত আগাছা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কোন ফসলের ক্ষেতে যদি এই পার্থেনিয়াম জন্মায় তাহলে ৪০ শতাংশ ফসল কম হবে। এসব ক্ষতিকর দিকগুলো পর্যালোচনা করে কৃষিবিদরা এ গাছটিকে পুড়িয়ে ফেলতে বলেছেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রে সতর্ক থাকারও নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন এটি কেউ কাটতে গেলে ব্যক্তির হাতে পায়ে লাগতে পারে পড়াতে গেলে ফুলের রেনু দূরে উড়ে গিয়ে বংশবিস্তার করতে পারে, আবার ব্যক্তির নাকে মুখে লাগতে পারে, তাতে করে তিনি মারাত্মক বিষ ক্রিয়ায় পড়তে পারেন। এক্ষেত্রে প্রথমত সতর্কতার সাথে গাছটিকে কাটতে হবে, হাতে গ্লাভস চোখে চশমা থাকলে ভালো হয়। পা ভালোমতো ঢেকে রাখতে হবে, মোটা কাপড়ের প্যান্টের সঙ্গে বুট জুতা পরা যেতে পারে। গভীর গর্ত করে গাছ পুঁতে ফেলতে পারলে ভালো হয়, এমনকি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় মেরে ফেলতে পারলে আরো ভালো হয়। সেক্ষেত্রে ডায়ইউরোন, ডারবাসিল, ব্রোমাসিল ৫০০ লিটার পানিতে মিশিয়ে হেক্টর প্রতি প্রয়োগ করতে হবে। আগাছা টি মানুষ এবং পশুর ও প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর। গরু, ছাগল, ভেড়া, এই আগাছা খেলে প্রথমত মুখে ঘা এবং চর্মরোগ হয় এবং আস্তে আস্তে মুখের মাড়িতে ঘা হতে থাকে এবং মৃত্যু ঘটতে পারে। এবং বেশি পরিমাণ খেলে ডায়রিয়া এবং অন্যান্য রোগ আরম্ভ হতে থাকে। মানুষের শরীরে এই আগাছা স্পর্শ করিলে প্রথমে চুলকানি, চর্মরোগ, মানুষের ফুসফুস, এমনকি ক্যান্সার হয়ে মৃত্যুবরণ করিতে পারে, এই আগাছার সংস্পর্শে এসে ভারতের পুনেতে প্রায় ১০ থেকে ১২ জন মৃত্যুবরণ করেন। এজন্য এ আগাছার সম্বন্ধে আমাদের সচেতন হওয়া দরকার এবং অন্যকে সচেতন করা দরকার। সংগৃহীতঃ

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর