
মোঃ আতাউর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক:-
উচ্চশিক্ষিত যুবক ইমাম হাসান সাগরের দুই বিঘা জমিতে রাশিয়ান ‘বাইকুনুর’ জাতের আঙ্গুর চাষে রেকর্ড ফলন।
প্রচলিত কৃষির গণ্ডি পেরিয়ে রাজশাহীর বাগমারায় বিদেশি মিষ্টি আঙ্গুর চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন উচ্চশিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তা ইমাম হাসান সাগর। ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (EEE) বিএসসি সম্পন্ন করেও চাকরির পেছনে না ছুটে তিনি এখন একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।
জেলার বাগমারা উপজেলার হাসনিপুর গ্রামের বাসিন্দা সাগর তার পৈতৃক পানের বরজ ভেঙে দুই বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার বাগানে রাশিয়ান ‘বাইকুনুর’ সহ মোট ৬টি বিদেশি মিষ্টি জাতের আঙ্গুর রয়েছে। এর মধ্যে ‘বাইকুনুর’ এবং ‘একলো’ জাত দুটি বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বিশেষভাবে সফল হয়েছে।
সাগরের বাগানে বর্তমানে প্রায় ৩৬০টি গাছ রয়েছে, যেগুলোর বয়স মাত্র ৯ থেকে ১০ মাস। প্রতিটি গাছে গড়ে ১৫ থেকে ২০ কেজি করে আঙ্গুর ধরেছে। তিনি আশা করছেন, এই মৌসুমে প্রায় ৭ টন ফলন পাওয়া যাবে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। ইতোমধ্যে তিনি আরও এক বিঘা জমিতে বাগান সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেছেন।
সাগর জানান, “বাংলাদেশে বাইকুনুর ও একলো জাতের আঙ্গুর চাষ ইতোমধ্যে পরীক্ষিত। এপ্রিল থেকে জুন মাস গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। যদি সঠিকভাবে পলিনেট শেড হাউসের ব্যবস্থা করা যায়, তবে এই বাগান থেকে সারা বছরই ফলন পাওয়া সম্ভব।”
ভিনদেশি মিষ্টি ফলের এই অভূতপূর্ব ফলন দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সাগরের বাগানে ভিড় জমাচ্ছেন। অনেকে বাণিজ্যিকভাবে বাগান করার আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং সাগরের কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করছেন।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, দেশে এমন উন্নত জাতের বিদেশি ফল চাষের বিস্তার ঘটলে আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমবে এবং দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। সাগরের এই উদ্যোগ স্থানীয় বেকার তরুণদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।