
সারিয়াকান্দি বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা কামালপুর ইউনিয়ন সুতানারা গ্রামে মমতাজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৮) এর উপর ১২ জুন বৃহস্পতিবার রাত্রি আনুমানিক সাড়ে ৯ টায় অতর্কিত হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ ৮/১০ জনকে অজ্ঞাত আসামী দিয়ে সারিয়াকান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিবাদীরা হলেন:- ঐ এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে রাজু আহমেদ (২৬), সাহেব আলীর ছেলে লিমন(২৫), তোতা মিয়ার ছেলে বাধন(২৫), সুরুজের ছেলে শাকিল(২৪) ও কালুর ছেলে সেলিম(২৫)।
লিখিত অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, ১২ জুন বৃহস্পতিবার বিকাল আনুমানিক ৩ টার দিকে বিবাদীরা নেশা জাতীয় মাদক সেবন করে আমার বাড়ীর সামনে চিল্লাচিল্লি করতিছিল। আমার স্ত্রী আমাকে দেখতে বললে আমি বাড়ির বাহিরে যাই এবং বিবাদীদের চিৎকার-চেঁচামেচি করিতে নিষেধ করি। বিবাদীগণ আমার কথা না শুনে আমার সাথে খারাপ আচরণ করতে থাকে এবং মারপিট করে খুন জখম করবে মর্মে হুমকি দিতে থাকে। আমি বিবাদীদের ভয়ে বাড়িতে অবস্থান করতে থাকি। বিকালে বিবাদীদের অভিভাবক গণকে জানালে তারা সন্তানদের শাসন করবে বলে জানান।
ঐদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টার দিকে আমার বন্ধু আলমগীর হোসেনের মোটরসাইকেলে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে উক্ত বিবাদীগণ হাতে লাঠি সোটা নিয়ে উৎ পেতে থাকা অবস্থায় হামলা চালিয়ে মারপিট করে। আমার হাতে থাকা শপিং ব্যাগে আমার বন্ধু পশু ডাক্তার রিপনের হালখাতার নগদ এক লাখ টাকা আমার কাছে ছিল। বিবাদীগণ অসৎ উদ্দেশ্যে উক্ত টাকার ব্যাগ জোর করে ছিনিয়ে নেয় । আমার বন্ধু ঠেকাতে গেলে তাকে এবং আমাকে দুজনকেই মারপিট করে। আমাদের চিৎকারে ঘটনাস্থলে অনেকে এগিয়ে আসলে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে বিবাদীরা প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি ধামকি দিয়ে চলে যায়। পরে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছি।
তিনি আরও বলেন, আমার সাথে কারো কোনো শত্রুতা নেই। মাদক সেবনে নিষেধ করাই আমার অন্যায়। পুলিশ প্রশাসন সহ এলাকা বাসীর কাছে সঠিক বিচার ও কঠিন শাস্তির দাবী জানাচ্ছি। আহত সাইফুল ইসলাম কামালপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক। সরেজমিনে গিয়ে বিবাদীদের কাউকে পাওয়া যায়নি। বিবাদী বাধনের মামা মেহেদী হাসান মুঠোফোনে জানান, যে আমার বাবার সম্পত্তি বোনদের মাঝে বন্টন করে দেওয়ার সুবাদে সকল বোন ভাগিনারা আমাদের বাড়িতে ছিল। বিকালে সবাই চলে যায়। আমার ভাগিনা বাধন ও আমার আরও ভাই সকলে আমাদের বাড়িতে ছিলাম। হাসি ঠাট্টা গল্প খাওয়া দাওয়া শেষ করে রাত্রি আনুমানিক ১২ টার দিকে আমার ভাগিনাকে তার বাড়িতে রেখে আসি। আমার ভাগিনা এই ঘটনার সাথে জড়িত নাই বলে জানায় । পশু চিকিৎসক রিপন জানান, ঘটনার দিন আমার দোকানের হালখাতা চলছিল। কিছু দিন পূর্বে সাইফুলের কাছে থেকে এক লাখ টাকা কর্জ নেই। হালখাতা শেষে ঐ টাকা তাকে ফেরত দেই। ঐ টাকা রাতে সে নিতেই চাইলো না। খরচ হয়ে যাবে বিধায় তাকে রাতেই দিয়ে দিলাম। কে জানে এ রকম ঘটনা ঘটবে। এই ঘটনার সঠিক বিচার দাবী করেন তিনি।
আলমগীর জানান, মোটরসাইকেল নিয়ে দুইজনে বাড়িতে যাচ্ছিলাম পথেরমধ্যে কয়েকজন কৈখালী ব্রিজের উপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং দুইজনকেই আঘাত করে। ঘটনাস্থল থেকে চলের যাওয়ার সময় দেখা যায় সাইফুলের কাছে টাকার ব্যাগ নাই।
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি জামিরুল ইসলাম জানান, সাইফুল ইসলাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের তদন্ত করার জন্য চন্দনবাইশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছি।