“হে আমার প্রেয়সী”
কলমে : এইচ আই নয়ন
হে আমার প্রেয়সী-
ইতিহাসের গাঢ় অন্ধকার ভেদ করে
যেন আলোর প্রদীপ হাতে তোমার ,
ঐতিহ্যের প্রতিটি ইটের গায়ে
তোমার রূপের ছাপ জেগে ওঠে।
তুমি যেন মহাস্থানগড়ের নিসর্গ,
শতাব্দীর পর শতাব্দী টিকে আছো,
অপরূপ সৌন্দর্যের প্রতিমা হয়ে।
তোমার চোখ দুটি-
মুঘল দরবারের জহরতের মতো দীপ্তিময়,
যেখানে শাহজাহানের স্বপ্নও হার মেনে যায়।
যেন লালবাগ কেল্লার দরজায়
ঝুলে থাকা অমর প্রেমের স্মৃতি,
যেখানে প্রতিটি ইট ফিসফিস করে বলে—
“প্রেম অমর, সৌন্দর্য অনন্ত,তোমার বেঁচে থাকাও অনন্ত আমার লেখনীতে।
হে আমার প্রেয়সী-
তোমার হাসি দেখলে মনে হয়
পদ্মা নদীর ঢেউ হেসে উঠেছে,
তোমার পদক্ষেপে কাঁপে জগৎ,
আভা হয়ে জলে সমস্ত অগ্নিপিণ্ড,
শঙ্খের ধ্বনি, পুঁথির পাতা,
ঢাক-ঢোলের উৎসব;
সব কিছুরই রূপ ধরা দেয়
তোমার কণ্ঠের মায়ায়।
হে আমার প্রেয়সী-
চিরন্তন ঐতিহ্যের অর্ঘ্য হয়ে,
তোমার কপালে জ্বলজ্বল করে
অজন্তার অমর চিত্রকলার ছাপ।
তোমার চুলের অন্ধকারে লুকিয়ে আছে
সুন্দরবনের রহস্যময় ছায়া,
তোমার ঠোঁটের রক্তিম রঙ
যেন পলাশ ফুলের অনন্ত বসন্ত।
হে আমার প্রেয়সী-
কখনো লাল শাড়ির বর্ণে
রক্তগঙ্গার বিদ্রোহী নারী,
কখনো আবার মেঘনার নীল স্রোতে
মৃদু দোল খাওয়া প্রেমের তরী।
তোমার হাসির ভেতর লুকিয়ে থাকে
বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস,
তোমার অশ্রুতে জেগে ওঠে
প্রেম আর সংগ্রামের সমান কাব্য।
হে আমার প্রেয়সী-
আমি তোমাকে দেখি প্রতিটি যুগে,
প্রাচীন মন্দিরের কারুকাজে,
বেহুলার পালঙ্কে,
নকশিকাঁথার বুকে,
আর আজকের আধুনিক শহরের কোলাহলে।
তোমার রূপ-
কখনো সোনালি, কখনো রক্তিম,
কখনো নিস্তব্ধ গোধূলির মতো ধূসর—
তবুও চিরদিন অম্লান, চিরকাল অরূপা।
হে আমার প্রেয়সী-
প্রেমের পরম ঐতিহ্য,
রূপের ইতিহাস,
যে রূপ শত শত বছর পরে
আরও দীপ্ত হয়ে উঠবে—
হে আমার প্রেয়সী,
হে আমার প্রিয়তমা,
হে প্রেমের দেবী,
হে আমার কবিতা, হে আমার কাব্য,
তুমি চিরকাল বেঁচে থেকো,
আমার লেখানীর প্রতিটি বর্ণে,
প্রতিটি অক্ষরে,প্রতিটি শব্দে,
যেনো যুগে যুগে ফিরে আসো পাঠকের
পাঠ্য হয়ে।