বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় বিরাজ করছে ব্যতিক্রমধর্মী নির্বাচনী পরিবেশ। রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি এবার আলোচনায় এসেছে একটি ইতিবাচক দিক—পরিবেশবান্ধব ও শৃঙ্খলাপূর্ণ প্রচারণা। পোস্টারমুক্ত এই নির্বাচনী প্রচারণা সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে।
উপজেলার প্রধান সড়ক, বাজার, গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় ঘুরে দেখা গেছে, প্রচারণা থাকলেও নেই আগের সেই বিশৃঙ্খলা। দেয়ালে দেয়ালে কাগজের পোস্টার কিংবা গাছে পেরেক মারা ব্যানারের চিত্র এবার আর চোখে পড়ছে না। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুসরণ করে প্রার্থীরা কাপড়ের ব্যানার, ফেস্টুন ও হাতে হাতে লিফলেটের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বাগমারা উপজেলায় এবারের মোট ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। এই আসনে চারজন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তারা হলেন—ধানের শীষ প্রতীকে ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ডা. আব্দুল বারী, লাঙ্গল প্রতীকে ফজলুল হক এবং হাতপাখা প্রতীকে তাজুল ইসলাম।
প্রচার কার্যক্রমে বড় দুই দলের প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয়। ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার ব্যানার-ফেস্টুন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেশি দেখা গেলেও লাঙ্গল ও হাতপাখা প্রতীকের প্রচারণাও সীমিত আকারে চলছে।
এমন পরিচ্ছন্ন প্রচারণা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। মাড়িয়া ইউনিয়নের ভোটার প্রভাষক জিয়াউর রহমান বলেন, “আগে নির্বাচন এলেই চারপাশ নোংরা হয়ে যেত। অনেক এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোস্টার ছিড়ে ফেলতো কিংবা কুয়াশায় ভিজে যেত ফলে প্রার্থীর নির্বাচনী খরচ বাড়ার পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো। এবার পরিবেশ ঠিক আছে, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ।”
তরুণ ভোটার রেজাউল করিম জানান,
“কাপড়ের ব্যানার আর লিফলেট ব্যবহার করায় পরিবেশের ক্ষতি কম হচ্ছে। এমন প্রচারণা হলে মানুষ আরও আগ্রহ নিয়ে ভোটে আসবে।”স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্যও একই। পোস্টার না থাকায় দোকানঘর নোংরা হচ্ছে না, ব্যবসার ক্ষতিও কম হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
সব মিলিয়ে বাগমারায় এবারের নির্বাচনী প্রচারণা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণের প্রত্যাশা। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি ও সচেতন ভোটারদের উদ্দীপনায় এবারের ভোট হবে জাতির কাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণের ভোট এমনটিই প্রত্যাশা।