
গ্রাম বাংলা ২৪ নিউজ ডেস্ক:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পরকিয়ায় আসক্ত স্ত্রীর তালাক নোটিশ পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন স্বামী আজিজুল হক রবিন। রোববার সকালে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ।
নিহত আজিজুল হক রবিন উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজিজুল হক রবিন আট বছর আগে সদর দক্ষিণ উপজেলার গোয়ালগাঁও গ্রামের নাছিমা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের ছয় বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে ‘পরকিয়া’ সন্দেহে উভয়ের ঝগড়া লেগেই থাকতো। এর জের ধরে ছয়মাস আগে নাছিমা আক্তার একমাত্র সন্তানকে রেখে বাবার বাড়িতে চলে যায়। তাকে ফিরিয়ে আনতে অনেকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন আজিজুল হক রবিন। গত দুইমাস আগে নাছিমা আক্তার স্বামী আজিজুল হক রবিনকে ‘তালাক নোটিশ’ পাঠায়। পরিবারের লোকজন আজিজুল হক রবিনকে বিষয়টি অবগত করেনি। আজিজুল হক রবিন ঈদের ছুটি শেষে গার্মেন্টসে চাকরিতে যোগদানের ‘পরিচয়পত্র’ খুঁজতে গিয়ে ‘তালাক নোটিশ’ দেখতে পায়। এরপর থেকে তার মন খারাপ হয়ে যায় এবং সর্বশেষ শনিবার বিকেল থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রোববার সকালে বাড়ির পাশের একটি গাছে আজিজুল হক রবিনের লাশ ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্বজনরা।
রবিনের ভাই আশরাফুল ইসলাম শাওন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাই রবিনের সাথে ভাবি নাছিমা আক্তারের ঝগড়া চলছিল। এরই জের ধরে ছয় মাস আগে নাছিমা আক্তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। দুই মাস আগে ‘তালাক নোটিশ’ পাঠায়। বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে গোপন রাখলেও দুইদিন আগে তিনি তালাক নোটিশটি দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সর্বশেষ রোব বার বাড়ির পাশে গাছে লাশ ঝুলতে দেখা যায়।
চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক তারেক উদ্দিন আকাশ বলেন, রবিনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে আত্মহত্যা করেছে। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।