রিপন হোসেন
মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় চলতি মৌসুমে আগাম জাতের আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া আর পরিমিত সার-কীটনাশক ব্যবহারের ফলে হেক্টর প্রতি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তবে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে বাজারে আলুর দাম কিছুটা কমে যাওয়ায় প্রান্তিক চাষিদের মধ্যে শঙ্কা ও সম্ভাবনা—উভয়ই বিরাজ করছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি ২০২৬ মৌসুমে মান্দার ১৪টি ইউনিয়নে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে নদীর চরাঞ্চলগুলোতে উন্নত জাতের মিউজিকা, ডায়মন্ড, স্টিক ও অ্যাস্টেরিক্স আলুর ব্যাপক ফলন দেখা যাচ্ছে। অনেক কৃষক ধান কাটার পরপরই লাভের আশায় আগাম আলু চাষ করেছিলেন।
আজ সকালে মান্দার বিভিন্ন হাট ( চৌবাড়িয়া হাট ও সতীহাট) ঘুরে দেখা গেছে
মানভেদে প্রতি মণ আলু বর্তমানে ৬০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জানুয়ারির শুরুর দিকে এই দাম ৮০০ থেকে ৯০০ টাকার উপরে থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা নিম্নমুখী।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা জমি থেকেই সরাসরি আলু কিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাচ্ছেন। তবে ভারত থেকে আলু আমদানির খবরের প্রভাবে স্থানীয় বাজারে দাম কিছুটা স্থিতিশীল বা হ্রাসের দিকে রয়েছে।
মান্দার উপজেলা করতীয় পাড়া আলু চাষি আব্দুল লতিফ বলেন, এবার আলুর আকার ও রং খুব ভালো হয়েছে। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ৩০-৪০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা আলুর ফলন ৫০-৬০ মন উৎপাদন হয়েছে, বর্তমান বাজারে যে দাম, তাতে খরচ উঠে কিছুটা লাভ থাকছে। তবে দাম যদি ৫০০ টাকার নিচে নেমে যায়, তাহলে লোকসান গুণতে হবে।
অন্যদিকে, অনেক কৃষক বাড়তি লাভের আশায় এখনই সব আলু বিক্রি না করে হিমাগারে সংরক্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে হিমাগার ভাড়া ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে ক্ষুদ্র কৃষকরা সরাসরি হাটেই আলু বিক্রি করে দিচ্ছেন।
মান্দা উপজেলা কৃষি অফিসার মোছা: শায়লা শারমিন জানিয়েছে, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি পদ্ধতিতে চাষাবাদের কারণে এবার উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে যাতে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পান এবং সিন্ডিকেটের কবলে না পড়েন।