জনবল সংকটে বাগমারার ভূমি অফিস; নেই কাঙ্খিত পরিমাণ ভূমি অফিসও
গ্রাম বাংলা ২৪ নিউজ ডেস্ক
প্রকাশের সময় :
বুধবার, ২৫ জুন, ২০২৫
৪২১
বার পঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগমারা
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে লোকবল সংকটে জমির মালিকরা জমির খাজনা, খারিজ, নামজারিসহ জমির কাগজপত্রাদি সারতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন। এছাড়াও উপজেলায় পরিমিত ইউনিয়ন ভূমি অফিস না থাকায় ভূমি সেবার মান বাড়ছে না বলেও সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। উপজেলায় ১৬ টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা মিলে ১৮টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস থাকার কথা থাকলেও মাত্র ৭টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে।
একদিকে ভূমি অফিস কম অন্য দিকে লোকবল সংকটে এলাকার ভূমির মালিকরা বেকায়দায় পড়েছেন। ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একজন সহকারী নায়েব (তহশিলদার) ও ৩ জন উপসহকারী নায়েব (তহশিলদার) থাকার কথা থাকলেও এই উপজেলায় কোনো ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ৩ জন উপসহকারী তহশিলদার নেই। এমনকি অফিস গুলোতে ৩ জন অফিস সহায়ক থাকার কথা থাকলে মিলছে মাত্র ২ জন। অফিস গুলোতে কম্পিউটারের কাজ করার দক্ষ লোক না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সেবা গ্রহীতাদের। বাধ্য হয়ে অফিস সহায়ক দ্বারা কাজ চালিয়ে নেয়া হয়। স্থানীয়রা অবিলম্বে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ভূমি অফিস ও অফিস গুলোতে লোকবল নিয়োগের দাবী জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের লোকবল সংকট ভূমি সেবার ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি করছে। প্রায় দিনই ভূমির মালিকরা অফিসে খাজনা দিতে গিয়ে ভূমি অফিসের সার্ভার সমস্যা বরাবরই লেগেই থাকছে। জমির খাজনা দিতে অফিস গুলো জমির মালিকদের নোটিশ জারি করে খাজনা পরিশোধের তাগিদ দিচ্ছে। এতে করে জমির মালিকরা খাজনা দিতে গিয়ে সময় মত কাজ করতে না পেরে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। লোকবল সংকট ও খাজনা দিতে সার্ভারের সমস্যায় দাখিলা, খারিজ, নামজারিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়ছে জমির মালিকরা। উপজেলার ভূমি অফিসের কাজে স্থবিরতার কারণে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাতে বসেছে বলে এলাকার সচেতন মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, জমির খাজনা, নামজারি ও খারিজ কাজে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে কাজ হয়ে থাকে। এসব অফিসে একজন সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) তিন জন উপসহকারী কর্মকর্তা ও তিনজন অফিস সহায়কের পদ রয়েছে। তবে বাগমারায় কোনো ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পুরো লোকবল নেই। প্রতিটি অফিসে মাত্র একজন কর্মকর্তাসহ জোর দুইজন অফিস সহায়ক রয়েছে। এছাড়া উপজেলার তাহির একডালা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কোনো উপসহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) নেই। ১ জন তহশিলদার ও ২ জন অফিস সহায়ক দিয়ে কাজ চলছে ঢিলে তালে। এ অফিসে গণিপুর ও বাসুপাড়া ইউনিয়নসহ প্রায় ২০/২৫টি গ্রামের কাজ হয় ওই অফিসে। লোকবল সংকটে ব্যাপক সমস্যায় পড়েন ভুক্তভোগী জমির মালিকগণ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস গুলোতে বেশ কিছু পদ অনেক দিন ধরে শূণ্য রয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য আলাদা ভূমি অফিসের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অফিস গুলোর জন্য স্থান নির্ধারণ করা হচ্ছে। লোকবল সংকট এটা সারা দেশের ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। নতুন করে কোনো নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সমস্যা দুর করা কঠিন বিষয়। তবে প্রয়োজনীয় ভূমি অফিস হলে ভূমি অফিসে কাজের তেমন কোন ঘাটতি হবে না বলে জানান তিনি।