1. admin@dailygrambangla24.com : admin :
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
আলুর দামে ধস, আহসানগঞ্জ হাটে কৃষকের হাহাকার! ফুডেলা দই উপহার পেলেন বাগমারার শ্রমিকেরা মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ট্রাকচালক পিতাকে পিটিয়ে জখম, টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বাগমারাবাসীর প্রতি এমপি ডা. আব্দুল বারীর শুভেচ্ছা বার্তা বাগমারায় শিক্ষক কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে চেক বিতরণ অনুষ্ঠিত বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে দুমড়েমুচড়ে গেছে সেনাবাহিনীর গাড়ি, মৃত্যু ৩ অবসরেও সম্মান অটুট, বাগমারায় শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে চেক বিতরণ অনুষ্ঠান দৈনিক উপচারের সম্পাদক বাবলুর ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাগমারায় এমপি ডা. আব্দুল বারীর সাফল্য কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল বাগমারায় নবনির্বাচিত এমপি ডা. আব্দুল বারীর জন্য ঐক্য ও উন্নয়ন প্রত্যাশায় দোয়া মাহফিল

 কে ঘোচাবে স্বরস্বতী-পার্বতীর দু:খ!

দৈনিক গ্রামবাংলা ২৪ ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৯২ বার পঠিত

 

গ্রামবাংলা নিউজঃ

বিদ্যার দেবী ও শক্তির দেবীর নামে নাম রেখেছিল তাদের বাবা মা। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়েনর একডালা গ্রামের বাসিন্দা পার্বতী রানী হালদার (৬৫) ও স্বরস্বতী রানী হালদার (৮০)। বাড়িঘর আর সহায় সম্বলহীন এই দুই নারী কত বছর ধরে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তা সঠিক করে বলতে পারেন না প্রতিবেশীরাও। এখন বয়সের ভারে এতটাই নূব্জ যে ভিক্ষা করতেও বের হতে পারেন না। নিজেদের কোন বাড়িঘর নেই। স্বরস্বতীর ভাইয়ের রেখে যাওয়া পরিত্যক্ত ঘরে বাস করেন তারা।

পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে জন্মান্ধ স্বরস্বতী তৃতীয়। তিন বোনের বিয়ে হলেও দৃষ্টিহীনতার কারণে তাঁকে বিয়ে দিতে পারেননি বাবা-মা। সবার বড় বোন বিয়ের কিছুদিন পর স্বামীর মৃত্যুতে বিধবা হন। বৃদ্ধ বা-মায়ের সংসারে এসে তিনিই হাল ধরেন। এরপর একে একে বাবা-মা মারা যায়, বিধবা বড় বোনটিও মারা যায়। একমাত্র ভাই ভানু হালদার বিয়ে করে অনেক আগেই শ্বশুরবাড়ী গিয়ে ওঠেন। এভাবেই একা হয়ে পরেন দৃষ্টিহীন স্বরস্বতী। বাপের ভিটায় ভাইয়ের পরিত্যক্ত ঘরে একাই পড়েছিলেন তিনি।

এদিকে স্বরস্বতীর কাকাতো ভাই কুড়ান হালদারের মেয়ে পার্বতী অল্প বয়সে বিধবা হন। স্বামী-সন্তান না থাকায় বাবার পরিবারেই আশ্রয় নেন। তাঁর তিন বোন এক ভাই ছিল। ভাই ধর্মান্তরিত হওয়ার পর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। বোনেদের মধ্যে সবাই যার যার স্বামীর সংসারে ছিলেন। এদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন, একজন জীবিত রয়েছেন।

সকল স্বজন হারিয়ে এখন অন্ধ পিসির ঘরেই আশ্রয় হয়েছে পার্বতীর। দুইজনে মিলে পারায় পারায় ভিক্ষাবৃত্তি করে নিজেদের পেট চালান। আর রাতে এসে একটি ভাঙাগোরে জড়াজড়ি করে থাকেন। এখন উভয়েই বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন, হাঁটতে পারেন না। ভিক্ষা করতেও বেরুতে পারেন না। আশপাশের বাড়িগুলো থেকে চেয়ে-চিন্তে যা পান, তাই দিয়ে সংসার পেট চালাতে হয় তাদের।
স্বরস্বতী বলেন, মায়ের গর্ভ থেকেই অন্ধ হয়ে জন্ম নিয়েছি। মা বাবা তারা দুঃখ করে মানুষ করলো। সবাইকে দান (বিয়ে) করলো, আমাকে দান করতে পারলো না। বড়বোন বিধবা ছিল, সেই আমাদের সংসারে থেকে ভাইবোনকে মানুষ করেছিল। বড় বোনও মারা গেলে, অন্য বোনগুলোও মারা গেছে। ভাই কোন খোঁজ-খবর নেয় না। আমার দুঃখ কেউ দেখে না। ভিক্ষাবৃত্তি করে ভাঙা ঘরের তলে থাকি। একটা বয়স্কভাতা দিয়েছিল, ৬ মাস পরে পরে ১৫শ টাকা পাই।
এদিকে পার্বতী বলেন, বাবা পেলেপুষে বিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু অল্প বয়সেই স্বামী মারা গেছে। আমার আর কেউ নাই। অন্ধ পিসিকে নিয়ে বাড়ি বাড়ি চেয়ে চিন্তে খাই। আমাদের একটি থাকার ঘরের খুব দরকার।

প্রতিবেশী চান মিয়া বলেন, স্বরস্বতী ও পার্বতী নেহায়েত গরীব মানুষ আগে এরা তাও মোটামুটি ভিক্ষাবৃত্তি করে খেয়েছেন। এখন তারা চলতেও পারে না। ঘর তো নাই, নদীর তীরে একটি টঙঘরে থাকে। খাবার তো কিছু নাই। রতনকান্দি ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গরীব।
আরও এক প্রতিবেশী মানজাব আলী বলেন, এরা পূর্বকাল থেকেই অসহায়। আমরা ছোট থেকেই দেখছি, এ পর্যন্ত দেখছি। এদের চেয়ে গরীব আর অসহায় মানুষ একডালা গ্রামের মধ্যে আর নাই। ওদের জন্য কোন সহযোগীতা করলে খুব উপকার হবে, গ্রামের মানুষও খুশি হবে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের আর এক প্রতিবেশী শ্রী,সাধন কুমার শীল বলেন, জন্ম থেকেই এরা হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। একজন জন্মান্ধ। একজন বিধবা নিরেট গরীব। দুজনে একসাথে থেকে ভিক্ষাবৃত্তি করে। তাদের থাকার কোন বাসস্থানও নেই। কোনরকমে একটি পরিত্যক্ত ঘরে থাকে। যেখানে থাকার কোন অবস্থাও নেই। তারা ভিক্ষাবৃত্তির জন্যও উপযোগী নয়। সরকারের কাছে দাবী জানান তাদের সুন্দর একটি বাসস্থান ও দুমুঠো ডালভাত খাওয়ার নিশ্চয়তা পাক।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর