
গ্রাম বাংলা নিউজ :
আবারও আলুর বাজারে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। আজ আহসানগঞ্জ হাট ঘুরে দেখা যায়, মাঠে সোনালী স্বপ্ন ফলানো কৃষকরা হাটে এসে পাচ্ছেন না ন্যায্য মূল্য। প্রতি মণ আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২৫০ টাকায়—যেখানে এক বস্তা সার কিনতেই গুনতে হচ্ছে ২২০০ টাকা!
কৃষকদের দাবি, শুধু সার নয়—উন্নত বীজ, সেচ খরচ, জমি প্রস্তুত, শ্রমিক মজুরি, কীটনাশক ও পরিবহন ব্যয় মিলিয়ে উৎপাদন খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। অথচ বাজারে এসে সেই আলুই বিক্রি করতে হচ্ছে লোকসানে। এতে চরম হতাশায় পড়েছেন তারা।
হাটে উপস্থিত এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“ঋণ করে চাষ করেছি। এখন এই দামে আলু বিক্রি করলে পুঁজি তো দূরের কথা, খরচই উঠবে না। পরিবার চালাবো কীভাবে?”
আরেকজন কৃষকের ভাষ্য,
“এভাবে চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে আলু চাষ বন্ধ করতে বাধ্য হবো।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে তারা জিম্মি হয়ে পড়ছেন। হিমাগার সংকট, দালাল চক্র ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে দাবি তাদের।
কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলে আলুর দাম ধসে পড়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদি দ্রুত ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না হয়, তবে আগামীতে আলু উৎপাদনে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
-কৃষকদের দাবি—
-ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা
-হিমাগার ভাড়া কমানো
-সরকারি পর্যায়ে আলু ক্রয়ের উদ্যোগ
– বাজার মনিটরিং জোরদার করা
এখন প্রশ্ন একটাই—কৃষকের ঘাম কি তবে আর মূল্য পাবে না?