রিমন মাহমুদ:
রাজশাহীর বাগমারার রফিকুল ইসলাম গত তিন দশক ধরে রাস্তার পাশে মাছ বিক্রি করে সততার সাথে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
জীবনসংগ্রামের পথে মানুষের কতই না বৈচিত্র্যময় পথচলা। কেউ বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়ে সম্পদ গড়েন, আবার কেউ ছোট এক টুকরো জায়গায় সততার সাথে কাটিয়ে দেন দীর্ঘ সময়। এমনই এক সংগ্রামী মানুষের নাম মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম। গত ৩০ বছর ধরে তিনি রাস্তার ধারে মাছ বিক্রি করছেন। রফিকুল ইসলামের কাছে বড় কোনো দোকান নেই, নেই কোনো আধুনিক ব্যবস্থা। তবুও তার কাছে প্রতিদিন ভিড় জমান ক্রেতারা। এর মূল কারণ হচ্ছে তার সরবরাহকৃত মাছের গুণগত মান ও সতেজতা।
রফিকুল ইসলামের ঝুড়িতে সাধারণ মাছের চেয়ে বেশি দেখা যায় দেশি প্রজাতির দামি এবং টাটকা মাছ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—কই, টেংরা, শিং এবং পাবদা। তিনি জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর আগে যখন তিনি এই পেশায় এসেছিলেন, তখন মূল লক্ষ্য ছিল পরিবারের মুখে দুবেলা অন্ন তুলে দেওয়া। আজ তিন দশক পরেও তিনি একই নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।
মাছ বিক্রির আয়েই চলে তার পুরো সংসার। রফিকুল ইসলাম বলেন, “মাছ বিক্রি করেই আমি সন্তানদের বড় করছি এবং সংসারের হাল ধরেছি। মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি, এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ক্রেতারা জানেন আমার কাছে এলে তারা পচা মাছ পাবেন না, বরং টাটকা মাছই পাবেন।”
এলাকার ক্রেতাদের কাছে রফিকুল ইসলাম এক পরিচিত ও বিশ্বস্ত মুখ। আধুনিক বাজারে যেখানে ফরমালিন ও ভেজালের ছড়াছড়ি, সেখানে রফিকুল ইসলামের মতো ক্ষুদ্র বিক্রেতারা আজও টাটকা পণ্যের নিশ্চয়তা দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রেখেছেন।