1. admin@dailygrambangla24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বাগমারায় জামায়াতের মাদকবিরোধী র‍্যালি বাগমারায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে হুমকির অভিযোগ ‎লালমনিরহাটে ​চলতি মাসেই উন্মুক্ত হচ্ছে নতুন রূপের নাগরিক সেবাকেন্দ্র ইউপি পরিষদ গুলো খালেদা জিয়ার হাত ধরেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন হয়েছে—–ত্রাণমন্ত্রী দুলু ‎ ‎লালমনিরহাটে ভুট্টা ক্ষেত থেকে শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার, রণক্ষেত্র ফলিমারী, এসপিসহ আহত ১৬, ওসি ক্লোজড, আটক ২ ‎ বাগমারায় ভবানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) হলেন আব্দুস সোবহান ‎লালমনিরহাট চেম্বারেের নির্বাচনে সভাপতি পদে সেলিম সবুজের জয় ‎ বাগমারায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন বাগমারায় ভিজিট ফ্রি চিকিৎসা সেবা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি ডা. আব্দুল বারী ‎প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে লালমনিরহাটে ব্র্যাকের অনন্য উদ্যোগ, ৪৩ পরিবারের মাঝে হাঁসের বাচ্চা বিতরণ ‎

বাগমারায় পানি পড়া নিতে লক্ষাধিক মানুষের ভীড়, কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কিছু অসাধু ব্যাক্তি

দৈনিক গ্রামবাংলা ২৪ ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৪৬ বার পঠিত



গ্রাম বাংলা নিউজ:

এক হাতে পানির গ্লাস আর অন্য হাতে তেলের বোতল হাতে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। হুজুর ‘ফুঁ’ দেওয়ার পর তা খেলে ভালো হবে জটিল সব রোগ। দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে মানুষ। ভীড়ের মধ্যে ঘটছে নানান অপ্রীতিকর ঘটনা। শুক্রবার এলেই জাহিদ হুজুরের(২৮) ‘ফুঁ’ দেওয়া পানি ও তেল পড়া নেওয়ার এমন দৃশ্য রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তালঘড়িয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা মাঠ ও এর আশপাশের এলাকার।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে তালঘড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের প্রবেশমুখে দীর্ঘ যানজট। শত শত রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা গ্রামের দিকে যাচ্ছে। মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে আছেন বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। সবার হাতেই তেলের বোতল ও পানির গ্লাস। তাঁরা চেষ্টা করছিলেন হুজুরের সঙ্গে কথা বলতে। চারপাশে চিৎকার-চেঁচামেচি, ঠেলাঠেলি। উপস্থিত নারী-পুরুষদের উদ্দেশ্যে মাইকে বলা হচ্ছে দান না করলে দোয়া কবুল হয় না। এতিমখানার জন্য দানবাক্সে কিছু দান করে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, প্রতি সপ্তাহে এক লক্ষ টাকার বেশি দান বাক্সে টাকা জমা হয়। দানবাক্সে উত্তলনের অর্ধেক টাকা হুজুরকে দিতে হয়। সেই শর্তে তিনি এইখানে পানিপড়া দেন। এর আগে তিনি অন্য জায়গায় পানি পড়া দিতেন। টাকা ভাগাভাগির বনিবনা না হওয়ায় এখানে এসেছেন। এছাড়াও তেলের বোতল ও পনির গ্লাস বিক্রিয় বাবদ আরো লক্ষাধিক টাকার কারবার হয় এখানে।
তালঘড়িয়া গ্রামের অন্তত ১০ জন বাসিন্দা জানিয়েছেন, জাহিদুল ইসলাম অনেক দিন ধরেই সুস্থতার জন্য তেল-পানিতে ‘ফুঁ’ দেন। কারও কারও উপকার হয়েছে, এমন বিশ্বাস থেকে লোকজনের মধ্যে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে কে সুস্থ হয়েছেন এমনটি কেউ বলতে পরেননি।
হাসান আল জামান (সুইট) বাড়ী নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দূর্লভপূর গ্রামে। গত দুই বছরের ব্যাবধানে তাঁর হার্টে ৩ টি রিং পড়ানো হয়েছে। তিনিও প্রতি সপ্তাহেই আসেন পানি খেতে। স্কুল শিক্ষক সুইট বলেন বিস্বাস করে খাচ্ছি। তবে কাজ হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।
ভাগনদী গ্রামের ষাটোর্ধ মোঃ আক্কাস আলী। বয়স জনিত নানান অসুক রয়েছে তাঁর। হাতে থাকা পানির গ্লাসটি খালি, বললেন ‘ফুঁ’ দেওয়া পানি খেয়েছেন। হাত পা ফুলার সমস্যার কারনে কয়েক সপ্তাহ থেকে পানি খাচ্ছেন তিনি। তবে আক্কাসের পল্লীচিকিৎস মোঃ মিজানুর রহমান বলেন পানিতে কাজ না হওয়ায় তার কাছ থেকেও ঔষধ খাচ্ছে সে।
তবে বিষয়টি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা। গোপীনাথপুর গ্রামের মোঃ রফিকুল হুজুর বলেন, এধরনের কাজ শিরকের পর্যায়ে পড়ে। মানুষ কেন যেন এগুলো বিশ্বাস করে আমার বুঝে আসেনা। এ ধরনের চর্চা এর আগেও আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখেছি। কোনো স্থানেই এই চর্চা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি প্রতারণা বলেই প্রমাণিত হয়েছে। এখানেও এর ব্যতিক্রম কিছু ঘটবে না।
জানা যায় জহিদ হুজুরের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গায়। সে উপজেলার আবদানপুর গ্রামের মোঃ আলাবস্কের ছেলে। তাঁর প্রতিবেশী ইয়াদ আলী জানায় কিছু দিন আগেও অটোরিকশা চালাতো জাহিদ এখন দামি গাড়ী চালায়। তার দেয়া তথ্য মতে জাহিদ পার্শবর্তী চেওখালী জামে মসজিদের ইমামতি করেন। প্রথমে সে ঐ মসজিদ প্রঙ্গনেই পানি পড়া দিতেন। কিছুদিনের মধ্যেই সেটি জমে উঠে। পানি পড়ার দিন দান বাস্কে যে টাকা আদায় হতো তা থেকে বিশ হাজার টাকা তাকে দেওয়া হতো। টাকা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় সে এখন তালঘড়িয়াতে পানি পড়া দিচ্ছে। ইয়াদ আলী বলেন শুনেছি ওখানে মোট আদায়ের অর্ধক টাকা নেয় সে। পানি পড়ার দিন লক্ষাধিক টাকা ইনকাম হয় বলে তার ভাষ্য। চেওখালী জামে মসজিদের মুসল্লী রহিদুল ইসলামও একই রকম তথ্য দেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন অফিসার এস.আই.এম রাজিউল করিম দৈনিক সমকালকে বলেন বিষয়টি আমি অবগত নই। পানি পড়ায় রোগ ভালো হয় চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর কোন ভিত্তি নেই। কেউ যদি এ ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িত থাকে তাহলে আমরা প্রশাসনিক ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এ বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম হুজুর বলেন, আমি কাউকে তেল-পানি পড়া নেওয়ার জন্য দাওয়াত দিই না। যাঁরা আল্লাহর কালাম বিশ্বাস করেন, তাঁরা আমার কাছে আসেন। আমি আল্লাহর কালাম পড়ে তেল-পানিতে “ফুঁ” দিয়ে দিই মাত্র। নাটোরের কান্দিভিটা মাদ্রসা থেকে সে হাফেজিয়া সম্পূর্ণ করেছে বলে দাবি করেন। তবে টাকা নেওয়ার কথা জানতে চাইলে সে কল কেটে দেয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, পানি পড়া দেওয়ার নামে কেউ যদি সাধারণত মানুষের সাথে প্রতারনা করে তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ধরনের অপকর্ম কোনভাবেই চলতে দেওয়া হবে না।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর