
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগমারা:
রাজশাহীর বাগমারার নন্দনপুর টেকনিক্যাল ভোকেশনাল স্কুল এন্ড বিএম কলেজের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ট্রেডের প্রভাষক কারাবন্দি ওমর আলীকে চাকরি থেকে বরখাস্তের দাবিতে ঐ কলেজের সভাপতি বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম এর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) এলাকাবাসীর পক্ষে উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের নন্দনপুর গ্রামের সাহার আলীর ছেলে মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে অভিযোগটি করেছেন। ওই অভিযোগপত্রে এলাকাবাসীর পক্ষে চিকাবাড়ী-নন্দনপুর এলাকার আমিনুল হক, আসলাম আলী, খয়বর আলী, নাজমুল হক, সোহেল রানা ও মামুনসহ আরো অর্ধশতাধিক ব্যক্তি সাক্ষর করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নন্দনপুর টেকনিক্যাল ভোকেশনাল স্কুল এন্ড বিএম কলেজের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ট্রেডের প্রভাষক ওমর আলী অপহরণ চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য। তার নেতৃত্বে বাগমারার বাসুপাড়া ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামের বেলাল উদ্দিনের ছেলে সোহেল রানাকে গত ২৫ আগস্ট রাজশাহী জজ কোর্টের মেইন গেটের সামনে থেকে অপহরণ করে। এরপর নগরীর একটি পরিত্যাক্ত ঘরে আটকিয়ে রেখে মোবাইল ফোনের মাধ্যামে তার পরিবারের কাছে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এই ঘটনায় মহানগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহরণ চক্রের মুল হোতা প্রভাষক ওমর আলীসহ ওই চক্রের মোট ৮ জন সদস্যকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ওমর আলীর বিরুদ্ধে এর আগে পাহারাদারকে বেঁধে রেখে পুকুর থেকে নয় লাখ টাকার মাছ লুট, চাঁদাবাজি, পুকুর দখল এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়সহ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অপরহণ করে মুক্তিপণ দাবি ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলাও রয়েছে।
বর্তমানে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তার এ ধরণের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের কারণে তার কর্মস্থল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাছাড়া সে কারাগারে বন্দি থাকায় ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট ও এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করছে। কাজেই কারাগারে বন্দি থাকা অপহরণ চক্রের মূল হোতা ঘৃন্য অপরাধী প্রভাষক ওমর আলীকে তার পদ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপসারণ করে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান অভিযোগকারীরা।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন- প্রভাষক ওমর আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। বর্তমানে সে কারাগারে বন্দি রয়েছে। এ কারণে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কাজেই তাকে বরখাস্তের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে।