
নিজস্ব প্রতিনিধি:
নওগাঁর পার্শ্ববর্তি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে গত মে মাসে যোগদান করেছেন নিশাত আনজুম অনন্যা। এর আগে পূর্বের কর্মস্থল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনতলা গ্রামে যমজ তিন সন্তান জন্ম দেওয়া সুমা খাতুনের দিনমজুর পরিবারকে সহযোগিতা করায় তিনি সর্বমহলে প্রশংসিত হন। এছাড়া ওই উপজেলায় নানামুখি কল্যাণকর কাজের মাধ্যমে তিনি মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
নিশাত আনজুম অনন্যা আদমদীঘি উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই তিনি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেহাল ও জরাজীর্ণ গ্রামীণ রাস্তাঘাটগুলো পরিদর্শন করে দ্রুতই সেই রাস্তাগুলো মেরামতের পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। বিশেষ করে জনসাধারণের ভোগান্তি দূরীকরণে উপজেলার বিভিন্ন বেহাল রাস্তাঘাটগুলো সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করার কর্মকান্ড ইতিমধ্যেই উপজেলাবাসীর মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
শুধু রাস্তাঘাটই নয় উপজেলার প্রতিটি খাতের সার্বিক উন্নয়নে তার ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। বিশেষ করে উপজেলার যে সকল উন্নয়ন বঞ্চিত গ্রামগুলোতে এখন পর্যন্ত কোন ইউএনও কখনোই যাননি সেই সকল অবহেলিত এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে নানা সমস্যার কথা শুনছেন এবং দ্রুতই সেই সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস প্রদান করছেন। এমন নানাবিধ জনকল্যাণ ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের জন্য উপজেলাবাসীর প্রশংসা কুড়াচ্ছেন ইউএনও অনন্যা। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ অভিযানের মাধ্যমে বাজার দর নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভ’মিকা রেখে চলেছেন। সম্প্রতি তিনি উপজেলার চাঁপাপুর ইউপির ছোট ঝাঁখইড় ও কুন্দগ্রাম ইউপির তাঁরতা কুমারপাড়া এবং তিলোচ শিববাটি গ্রামের স্কুলের যাওয়ার রাস্তা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের নানা সমস্যার কথা শোনেন। বিগত সময়ের চেয়ে বর্তমান ইউএনও’র সময়ে সকল উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সঠিক বাস্তবায়নের মাধমে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের সকল স্থানের দৃশ্যপট পাল্টে যাবে এমনটিই আশা করছেন উপজেলাবাসী।
উপজেলার শেষ সীমানায় অবস্থিত একটি অবহেলিত ও উন্নয়ন বঞ্চিত গ্রাম দড়িয়াপুর। সেই গ্রামের বাসিন্দা মো: আলম হোসেন জানান গ্রামটি উপজেলার শেষ সীমানায় অবস্থিত হওয়ায় চলাচলের একমাত্র মেঠো রাস্তার বেহাল দশা। বছরের পর বছর পার হলেও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসই একমাত্র গ্রামবাসীর ভরসা। কখনোও কোনো ইউএনও গ্রামের রাস্তা দেখতে আসেননি। কিন্তু বর্তমান ইউএনও নিজে গ্রামে এসে রাস্তার বেহালদশা দেখে গেছেন এবং গ্রামবাসীদের নানা সমস্যার কথা শুনেছেন। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। আমরা আশাবাদি তার মানবিক উন্নয়নের ছোঁয়া গ্রামবাসী দ্রুতই পাবেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত আনজুম অনন্যা জানান, জনসেবার জন্য প্রশাসন। জনগনের জন্য দেওয়া সরকারের সকল সুযোগ-সুবিধা উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে দিতেই সরকার তাকে সেবক হিসেবে নিয়োগ করেছেন। তাই যতদিন তিনি এই উপজেলায় সেবক হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে নিযুক্ত আছেন ততদিন তিনি মানুষের কল্যাণে ও এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে উপজেলার দৃশ্যপটে আমূল পরিবর্তন আনতে চান। আর ভালো কাজের মাধ্যমে তিনি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের মাঝে প্রশাসন সম্পর্কে পজেটিভ ধারণার সৃষ্টি করতে চান।
তিনি আরো বলেন একটি অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের প্রধান শর্ত হচ্ছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। উপজেলার কিছু কিছু প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার এখনোও বেহাল দশা। বড় ধরনের আর্থিক বরাদ্দ না থাকার দরুনে অনেক গ্রামীণ মেঠোপথকে এখনোও আধুনিকায়ন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবুও প্রতিবছরই অল্প অল্প করে গ্রামীণ চলাচলের পথকে আধুনিকায়নের কাজ চলমান রাখা হয়েছে। উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ রাস্তাগুলোকে ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুতই সেই প্রকল্পগুলো সঠিক ভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্ব স্ব এলাকার বাসিন্দারা ভোগান্তির হাত থেকে রেহাই পাবেন। যে কোন ভোগান্তি থেকে উপজেলাবাসীকে মুক্ত করে উন্নত সেবা দিতে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। পুরো উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে বিনির্মাণ করতে এবং উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে তিনি উপজেলার সকল শ্রেণি পেশার মানুষের কাছ থেকে গঠনমূলক সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।