গ্রাম বাংলা ডেস্ক:
নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় একটি কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা গোপন করতে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাও রয়েছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের আবহ বিরাজ করছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে নিহত কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে নূরার নেতৃত্বে একটি বখাটে চক্র কিশোরীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান বিচার মীমাংসার দায়িত্ব নেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অভিযুক্তদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেন।
এমনকি ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়ার জন্য চাপও দেওয়া হয়।
বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও সাহস পেয়ে যায়। ঘটনার প্রায় ১৫ দিন পর কিশোরীটি তার বাবার সঙ্গে খালার বাড়ি যাওয়ার পথে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা বাবার কাছ থেকেই তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে হত্যা করে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।
নিহতের স্বজনরা জানান, মেয়েটিকে না পেয়ে সারারাত খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান মেলেনি। পরদিন সকালে পুলিশ ওই ক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে মোট ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, মোহাম্মদ আইয়ুব এবং এবায়দুল্লাহ।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এই নৃশংস ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।