
গ্রাম বাংলা ২৪ ডেস্ক নিউজ:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের ডিস ব্যবসায়ী সোনা উদ্দীন তার পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার সঙ্গে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় বালিয়া গ্রামে তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সোনা উদ্দীন ও তার ছেলে নাজমুল হোসেন অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজ গ্রামসহ ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রামে ডিস ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তার নিয়ন্ত্রণাধীন পাঁচটি গ্রামের ডিস লাইন দখল করে নেয়।
তারা আরও জানান, গত ২৮ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে একই এলাকার বাপ্পি হোসেন, কাওছার আলী, কাফি, মিন্টু, রাকিবসহ কয়েকজন যাত্রাগাছী গ্রামের মোসলেম মোল্লার আম বাগানে নাজমুল হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় লাইনম্যান মোনায়েম হোসেন তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তার ওপরও নৃশংস হামলা চালায়। একপর্যায়ে মোনায়েম হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতরভাবে জখম করা হয়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় নাজমুল হোসেন ও মোনায়েম হোসেনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে লাইনম্যান মোনায়েম হোসেন সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন বলে জানানো হয়।
ঘটনার পর সোনা উদ্দীন বাদী হয়ে বাগমারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে মামলা দায়েরের পরও আসামিরা তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার পরিবারের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় এক প্রভাবশালী মহলের অনুসারীরা দাসপাড়া, লাড়ুপাড়া, নিমপাড়া, বালিয়া ও যাত্রাগাছীসহ পাঁচটি গ্রামের ডিস লাইন দখল করে নেয়। এছাড়া কালাপাড়া, কাঠালবাড়ি, অনন্তপাড়া, বলিদাপাড়া ও কামারবাড়ি গ্রাম থেকেও তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহিনুর রহমান বলেন, “আসামিরা এলাকায় না থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।তবে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”