
গ্রামবাংলা ডেক্স নিউজ:
নওগাঁয় নকল মাছের ওষুধ তৈরির একটি গোপন কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ, উপকরণ ও সরঞ্জাম জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জানা গেছে কারখানা টির মালিক বাগমারার আ: রহিম।
রোববার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় সংলগ্ন নর্থ বেঙ্গল গ্রেইন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের অটোরাইস মিলের পাশে একটি গোডাউনে এ অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওশাদ হাসান। অভিযানের পর কারখানাটি সিলগালা করা হয়।
অভিযানের সময় গোডাউনটির ভেতর থেকে গ্ল্যাক্সো–এগ্রোভেটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোড়ক ব্যবহার করে তৈরি নকল মাছের ওষুধ, কাঁচামাল ও উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট কাউকে আটক করা যায়নি।
গোডাউনটি পরিচালনা করছিলেন মো. আব্দুর রহিম ও মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি অনুমোদন ছাড়া নকল ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে আব্দুর রহিমকে ঘিরেই গুরুতর অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, মো. আব্দুর রহিম রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বিহানালী পশ্চিমকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সামসুর রহমানের ছেলে। তিনি গ্ল্যাক্সো–এগ্রোভেট কোম্পানিতে নওগাঁর মহাদেবপুর এলাকায় মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চাকরিতে থাকা অবস্থায় রহিম কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ, তার সংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নকল পণ্য বাজারজাত, কোম্পানির মোড়ক জাল করে ভেজাল মাছের ওষুধ বিক্রি এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাঁকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
নকল কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে ভেজাল ওষুধ উৎপাদনের অভিযোগের ভিত্তিতে মৎস্য বিভাগের সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ বিষয়ে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. বায়েজিদ আলম বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে নকল ওষুধ উৎপাদনের সত্যতা পাওয়া গেছে।’
গ্ল্যাক্সো–এগ্রোভেট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কোম্পানির মোড়ক জাল করে নকল পণ্য বাজারে ছাড়ার কারণে গ্রাহকদের অভিযোগ বাড়ছিল। এতে কোম্পানির সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। অভিযানে রহিমের প্রতারণার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।’
প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ হাসান বলেন, ‘নকল মাছের ওষুধ তৈরির কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ করা হয়েছে এবং কিছু পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে। অভিযুক্ত রহিম ও মোস্তাফিজকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।