মোঃ রবিউল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের অন্যতম বৃহৎ পেঁয়াজের বাজার তাহেরপুরে আজ এক ভয়াবহ মূল্যধসের চিত্র দেখা গেছে। প্রতি মন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০০ থেকে ২৬০ টাকায়—যা উৎপাদন খরচের তুলনায় একেবারেই অস্বাভাবিক ও কৃষকদের জন্য চরম ক্ষতির কারণ।
মাঠের ঘাম শুকানোর আগেই লোকসানের বোঝা কাঁধে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক। বীজ, সার, সেচ, শ্রম—সব মিলিয়ে যে খরচ, সেই হিসাবের ধারেকাছেও নেই বর্তমান বাজারদর। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক চোখের পানি লুকিয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন, আবার কেউ কেউ হতাশায় পণ্য মজুত করে রাখছেন—যেন একটু ভালো দামের আশায়।
কৃষকদের ক্ষোভ এখন তুঙ্গে। তাদের প্রশ্ন—
দাম বাড়লেই ভোক্তা অধিকার, টিভি চ্যানেল আর গণমাধ্যমের তৎপরতা চোখে পড়ে, কিন্তু দাম পড়ে গেলে কৃষকের কান্না কি কারও কানে যায় না?
একজন হতাশ কৃষক ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন,
“আমাদের কষ্টের ফসলকে কাঁচামাল বলা হয়, আর বাইরের কীটনাশক দিয়ে পাকানো পণ্য বাজারে দাপট দেখায়! আমরা কি তাহলে এই দেশের মানুষ না? আমাদের ন্যায্য মূল্য কোথায়?”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এটি শুধু একটি পণ্যের মূল্যপতন নয়—এটি কৃষকের অস্তিত্বের সংকট। দ্রুত বাজার তদারকি, সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না করলে কৃষকরা চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে—যার ভয়াবহ প্রভাব পড়বে পুরো কৃষি খাতে।
পেঁয়াজের এই ধস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়—এটি কৃষকের কান্না, অবহেলার প্রতিচ্ছবি। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, আগামী দিনে এর মূল্য দিতে হবে পুরো দেশকে।