
মোবারক হোসেন,বাগমারা:
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ইতিহাস বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় বি ইউনিটে ১০৩৮ তম স্থান থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ইসফাক ইয়াছির অর্প।
ইসফাক ইয়াছির অর্প, বাগমারা উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের নরদাশ গ্রামের এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। এক ভাই এক বোনের মধ্যে অর্প বড় । বাবা-মা’সহ পরিবারের সবার মুখ উজ্জ্বল করেছে অর্প। ছোটবেলা থেকে লেখা পড়ার স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। নিজের চেষ্টা, পরিবারের সদস্যদের সহ শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় অদম্য মেধাবী এ শিক্ষার্থী নিজেকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়।
ইসফাক ইয়াছির অর্পের বাবা মোঃ নাজমুল হক পেশায় সামান্য পোস্টমাস্টার, মাতার নাম মোছা: এসনাহার বিবি, তিনি একজন গৃহিণী।
অর্প নরদাশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসি, নরদাশ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ -৫ (গোল্ডেন) পেয়ে উত্তির্ন হয়েছে । পরে পানিয়া নরদাশ ডিগ্রী কলেজ থেকে ২০২৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) পায় সে। এ ছাড়া অর্প শিক্ষাজীবনে বৃত্তিসহ বিভিন্ন মেধা নির্বাচনি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করে।
এদিকে পানিয়া নরদাশ ডিগ্রী কলেজ থেকে অর্প চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ায় তার পরিবার, তার নিজ কলেজ সহ নিজ গ্রামে বইছে আনন্দের বন্যা। বন্ধু বান্ধব এলাকা বাসী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাকে।
ইয়াছির অর্প জানায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ায় প্রথমেই মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছি । ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হওয়ার। আর সেই লক্ষ্যে আমি লেখাপড়া চালিয়ে গিয়েছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যাতে একজন আদর্শবান শিক্ষক হয়ে নিজ এলাকাসহ আমাদের দেশের দরিদ্র-অসহায় মানুষের কল্যাণে তথা শিক্ষা ক্ষেত্রে কাজ করে সফলতা আনতে পারি। সে আরও বলে, আমার এই ভালো ফলাফলের পেছনে মা-বাবা, চাচা, মামা ও শিক্ষকদের অবদান অপরিসীম।
ইয়াছির অর্পের বাবা বলেন ছেলের সাফল্যে আমরা খুব আনন্দিত । মহান আল্লাহ আমাদের পুরস্কৃত করেছেন। আমাদের ছেলে যাতে ভালোে একজন শিক্ষক হয়ে দেশ ও জাতীর সেবা করতে পারে, সে জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।
অর্পের মা বলেন, ছোটবেলা থেকেই অর্প লেখাপড়ায় ছিল অদম্য মেধাবী। অবশেষে আমাদের পরিবারের সবার প্রচেষ্টা, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা ও সর্বোপরি তার নিজ প্রচেষ্টায় সে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েছে। ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চান তিনি।
পানিয়া নরদাশ ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: আ: সালাম বলেন, অর্প খুবই মেধাবী এবং বিনয়ী ছাত্র। তার কৃতিত্বে আমরা গর্বিত। সে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ায় ইতিহাস বিভাগের সকল শিক্ষক বৃন্দ খুবই গর্বি ত এবং আনন্দিত।
পানিয়া নরদাশ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: আ: রাজ্জাক বলেন,
ইসফাক ইয়াসির অর্প আমার ছাত্র। তার শিক্ষার আতুড়ঘর কলকাকলি কিন্ডার গার্টেন। আমি সেখানকার পরিচালক থাকা অবস্থায় অর্প প্লে শ্রেণি হতে ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। পরবর্তীতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর কৃতিত্বের সাথে সমাপ্ত করে এইচএসসি তে পানিয়া নরদাশ ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়। আমি আবারো তাকে পড়ানোর সুযোগ পাই। সে কখনো ক্লাশ, লিখা পড়া ফাঁকি দেবার চেষ্টা করেনি। জানার, শেখার প্রতি তার অদম্য আগ্রহ তাকে আজ সফল করেছে।
এইচএসসি তে ভালো ফলাফল ( এ প্লাস) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় মেরিট লিস্টে যায়গা করে নেবার জন্য পানিয়া নরদাশ ডিগ্রি কলেজ এবং কলকাকলি কিন্ডার গার্টেনের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা,শুভকামনা,
অভিনন্দন জানাই। তার সাফল্যে সত্যিই আমরা গর্ববোধ করছি। তার লালিত স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমে সে যেন দেশের সাধারণ মানুষের সেবা করতে সেই প্রত্যাশা করি। সেই সাথে তার জীবনের সর্বোচ্চ সফলতা কামনা করি।