1. admin@dailygrambangla24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বাগমারায় জামায়াতের মাদকবিরোধী র‍্যালি বাগমারায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে হুমকির অভিযোগ ‎লালমনিরহাটে ​চলতি মাসেই উন্মুক্ত হচ্ছে নতুন রূপের নাগরিক সেবাকেন্দ্র ইউপি পরিষদ গুলো খালেদা জিয়ার হাত ধরেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন হয়েছে—–ত্রাণমন্ত্রী দুলু ‎ ‎লালমনিরহাটে ভুট্টা ক্ষেত থেকে শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার, রণক্ষেত্র ফলিমারী, এসপিসহ আহত ১৬, ওসি ক্লোজড, আটক ২ ‎ বাগমারায় ভবানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) হলেন আব্দুস সোবহান ‎লালমনিরহাট চেম্বারেের নির্বাচনে সভাপতি পদে সেলিম সবুজের জয় ‎ বাগমারায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন বাগমারায় ভিজিট ফ্রি চিকিৎসা সেবা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি ডা. আব্দুল বারী ‎প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে লালমনিরহাটে ব্র্যাকের অনন্য উদ্যোগ, ৪৩ পরিবারের মাঝে হাঁসের বাচ্চা বিতরণ ‎

কৃষিপণ্যের দরপতন; বাগমারায় বাড়ছে কৃষকের হতাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগমারা
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৫৯ বার পঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগমারা:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কৃষি খাত বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্যের বাজারদর কমে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ফলে ধান, পানসহ প্রধান ফসল উৎপাদনের পরও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে লোকসানের শঙ্কা বাড়ছে।
উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু বাজারে সেই অনুযায়ী পণ্যের দাম না থাকায় কৃষকরা খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার শিকদারী হাট, তাহেরপুর হাট, ভবানীগঞ্জ হাট ও হাটগাঙ্গোপাড়া হাটে কৃষিপণ্যের বাজারে স্পষ্ট দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ীরা কম দামে পণ্য কিনছেন, ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে কম দামে ফসল বিক্রি করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রাজ্জাক দরপতনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। আমরা উৎপাদন ব্যয় কমাতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করছি। কৃষকদের বিভিন্নভাবে সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি, যাতে তাঁরা কম খরচে উৎপাদন করতে পারেন।” তারপরও কাঁচা পণ্যের বাজার উঠা-নামা হবে, কৃষকরা তাদের পণ্য সংরক্ষণ করে বিক্রি করলে ন্যায্য মূল্য পেতে পারেন।
এদিকে বাজার পরিস্থিতিও কৃষকদের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় হাটবাজারে আলুর দাম প্রতি মণ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, পেঁয়াজ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে দরপতন হয়েছে ধানের দামে, ক্ষেত্রবিশেষে ধানের দাম প্রতি মণে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। পাশাপাশি মাছ ও পানের দামেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।
শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক এছাহার বাগাতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ফসল ফলিয়েও লাভ নেই—দাম পাই না। খরচের টাকাই উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে কৃষক বাঁচবে না।”
একই এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “শ্রমিকের মজুরি বাড়ছে, কিন্তু ফসলের দাম কমছে। আমরা চরম সংকটে আছি।”
কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, “সবকিছুর দাম বাড়ছে, শুধু কৃষিপণ্যের দাম কমছে। এতে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে অনেকেই কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে।”
স্থানীয় মৎস্যচাষীরাও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, খাবারের দাম বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে সেই তুলনায় উৎপাদন বাড়লেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার দ্বৈত চাপে কৃষকরা টিকে থাকার লড়াই করছেন। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
কৃষকদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না হলে দেশের কৃষি খাত বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর