
গ্রাম বাংলা ২৪ নিউজ ডেস্ক :
হঠাৎ স্যারের ফোন, ফরিদা অনূর্ধ্ব ১৭ বিভাগীয় পর্যায়ের ট্রায়াল আজকে বিকাল চারটায় ব্যাগ গুছিয়ে কাগজ পাতি সব নিয়ে এসো,, ,, আমার আম্মু তখন দুপুরের নামাজ পড়ে,, আম্মুকে বললাম আম্মু আজকে ক্যাম্পে যাইতে হবে,, আম্মু তো নামাজ পড়তেছে আম্মু কিভাবে উত্তর দিবে?
তারপরে তাড়াতাড়ি ব্যাগ গুছিয়ে রেডি হয়ে,, আম্মু কে বললাম আম্মু এখন চলে যাবো,, আম্মুর নামাজ পড়া শেষ আম্মু বলে ভাত খেয়ে যা,, আমি বললাম আম্মু সময় নেই,, আম্মু টাকা দিয়ে বললো কিছু খেয়ে নিস,, আমার বাবা বাড়িতে নেই,, কাজে গিয়েছিল তাই বাবার সাথে দেখা হয় নাই,, কারন কাজে তো যেতেই হবে,, কাজ না করলে চলবে কি করে?
তারপরে বাড়ি থেকে বের হলাম,, দেখি আমার আম্মু একদম পিছন পিছন আসতাছে,, আমি অনেকবার খেলতে গেছি কিন্তু এবারের মত এরকম কষ্ট কখনো আমার লাগে নাই,, এমনকি চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গেছিল,, কেন জানিনা,, পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি আমার আম্মু সেই কতদূর পর্যন্ত তাকিয়ে আছে,, তখন আমি বলছিলাম যে আল্লাহ তুমি দেখো,, কাজে যাচ্ছি সেটাতে যেন সফল হয়ে ফিরে আসতে পারি,, আমার বাবা মায়ের মুখে যেন হাসি ফুটাতে পারি ,, চলে গেলাম ক্যাম্পে,, যাইতে আমার অনেক লেট হয়ে যায়,, সবাই মাঠে ওয়ার্মআপ শুরু করে দিয়েছে,, তারপরে শুরু হলো আমাদের ট্রায়াল,, ৩০ জন মেয়েদের মধ্যে আমরা ১৮ জন টিকেছিলাম।
তারপরে শুরু হলো আমাদের তিনদিনের ক্যাম্প,, একদিন স্যার বলল,, গত দুই বছরে আমরা টিমের কোন রেজাল্ট করতে পারি নাই,, এইবার আমাদের ভালো কিছু করতেই হবে,, আমি সবসময় মনে মনে ভাবতাম আল্লাহর কাছে দোয়া করতাম যে আল্লাহ এবারে আমাদের টিমটা চ্যাম্পিয়ন করে দিও আল্লাহ,, তিন দিন পর আমরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম,, আমরা যেদিন রাতে গেলাম পরের দিন আমাদের খেলা ছিল প্রথম ম্যাচ ঢাকা বিভাগের সাথে,, আমাদের ফাস্ট ম্যাচের দিনে অনেক বৃষ্টি ছিল,,
বৃষ্টি এতটাই জোরে হচ্ছিল যে একটা প্লেয়ারকে আর একটা প্লেয়ার ডাকলে কাছ থেকে শুনতে পাচ্ছিলাম না,, আল্লাহর কাছে হাজার হাজার শুকরিয়া ফাস্ট জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লাম,, তারপরের দিন সেকেন্ড ম্যাচ সিলেট বিভাগের সাথে খেলা ছিল,, এটাতেও আমরা জয়লাভ করলাম,, তারপরে এসে আমরা স্বপ্নের ফাইনালে উঠলাম,,
আমাদের প্রথম দিন থেকে একটাই লক্ষ্য ছিল যে আমরা ফাইনাল খেলব,, আজ যখন সেই স্বপ্নের ফাইনালে আমরা উঠে গেলাম,,, আমাদের একটাই পাসওয়ার্ড ছিল চ্যাম্পিয়ন,, আর এইখানে সবচাইতে বড় অনুপ্রেরণা হলো আমাদের জহির ইকবাল ভোলা স্যারের। আমাদের জেলা অফিসার জাহাঙ্গীর স্যারের,, আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পিছনে যেমন আমাদের প্লেয়ারের পরিশ্রম রয়েছে,, তার চাইতে দ্বিগুন রয়েছে আমাদের স্যারের, কারণ উনি আমাদেরকে শিখাইছেন উনার কাছ থেকে আমরা শিখছি উনি আমাদের যেটুকু শিখিয়েছেন এটুকুই আমরা কাজে লাগিয়েছি আর এটুকুই আমরা মাঠে খেলা দেখাইছি,, আর উপরওয়ালা সহায় ছিল মাঠে আমরা খেলছি আলহামদুলিল্লাহ,, এখানে কম সময়ের মধ্যে অনেক বড় কিছু জয় আমাদের,, আলহামদুলিল্লাহ,,, চ্যাম্পিয়ন ⚽🤲❤️