প্রতিনিধি, বাগমারা, রাজশাহী
বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা শেষে দাফন করেছেন এক পরীক্ষার্থী। ওই শিক্ষার্থীর নাম মমিনুল ইসলাম (১৮)। তিনি রাজশাহী বাগমারার মজোপাড়া গ্রামের মোজাফফর হোসেন এর ছেলে। এবার হাট গাঙ্গোপাড়া বিএম কারিগরি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছেন মমিনুল। আজ ছিল কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন বিষয়ের পরীক্ষা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় উপজেলার মজোপাড়া গ্রামের মোজাফফর হোসেন (৩৮) মাথায় টিউমার দেখা দেয়। অর্থাভাবে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়নি। সপ্তাহখানেক আগে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের পক্ষে তাঁকে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা নিবিড় পরিচর্যায় রাখেন। এই অবস্থায় গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে তিনি মারা যান। নিহত মোজাফফর হোসেনের দুই ছেলে। বড় ছেলের নাম মমিনুল ইসলাম ও ছোট ছেলের নাম সবুজ হোসেন।বড় ছেলে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছেন। আজ মঙ্গলবার ছিল তাঁর কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন বিষয়ের পরীক্ষা।
এদিকে গত রাতেই বাবার মৃত্যুর খবর পান মমিনুল ইসলামসহ পরিবারের লোকজন। সকালে বাবার লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে পৌঁছে। সকাল ১০ টায় বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিতে যান তিনি। দুই ঘন্টা পরীক্ষা দিয়ে বাড়িতে ফিরে বেলা আড়াইটায় বাবার জানাজায় অংশ নেন তিনি।
মমিনুল ইসলামের কক্ষের পরীক্ষার্থী রায়হান আহম্মেদ জানান, পরীক্ষার পুরো সময়ে সে কেঁদেছে। কক্ষে প্রবেশের পর থেকে তাকে অস্বাভাবিক দেখাচ্ছিল। পরে আমরা জেনেছি তার বাবাব লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিচ্ছে।
কয়েকবার তাকে স্যারদের সাত্ত্বনা দিতে দেখেছি।'
মজোপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম রেজা বলেন, মোজাফফর হোসেন পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন। তিনি খুবই গরিব। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলেকে লেখাপড়া করাচ্ছিলেন। জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় পরিবারে অভাব নেমে আসে। টাকার অভাবে ভালো চিকিৎসা করাতে পারেনি।
ছেলের পরীক্ষার জন্য মোজাফফর হোসেনের জানাজা আড়াইটায় করা হয়েছে। পরীক্ষা দিয়ে বাড়িতে ফিরে ছেলে মমিনুল জানাজায় অংশ নিয়েছেন।
হাটগাঙ্গোপাড়া বিএম কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ এবং ওই কেন্দ্রের সচিব আশরাফুল হক বলেন," সকালে আমি বিষয়টি জানার পর তাঁকে (মমিনুল) কেন্দ্রে এনে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থ করেছি। তার প্রতি আলাদা নজর ছিল, অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করে রাখা হয়েছিল।" সে পরীক্ষা শেষে বাবাকে দাফন করেছে।
এই বিষয়ে মমিনুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে কথা বলা যায়নি। তবে তাঁর স্বজনেরা জানান, মমিনুল ইসলাম পরীক্ষা দিতে চেয়েছিল তাই তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। তবে মানসিক ভাবে সে ভেঙে পড়েছে। সংসারের হালও এখন তাকেই ধরতে হবে।