
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি :
নওগাঁর রানীনগরের আগুনে পোড়া এক সন্তানের জননী বাসন্তী রাণী বর্ষা (২৫) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে রাণীনগর থানা পুলিশ। সোমবার দুপুরে উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের হরিপুর গ্রাম থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়। বাসন্তী রাণী ওই গ্রামের কুয়েত প্রবাসী উৎপল চন্দের স্ত্রী। গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বাসন্তী রাণীনর শ্বাশুড়ি গত তিন মাস আগে মারা যাওয়ার পর এক কন্যা সন্তান নিয়ে তার শ্বশুরের সাথে বসবাস করতো। সে বেশ কিছু দিন ধরে পারিবারিক অশান্তিতে ভূগছিলেন এমনটাই দাবি করে মৃত-বাসন্তী রাণীর ¯স্বজনরা বলছেন, তাকে হত্যার পর আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলা হয়েছে।
বাসন্তী রাণীর শ্বশুর কৃষ্ণবন্ধু ওরফে মুন্টু জানান, সোমবার সকালে মাঠের মধ্যে আলু তোলার জন্য আমরা সবাই চলে যাই। বাড়ীতে শুধুমাত্র আমার ছেলের বউ একাই ছিল। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে আলু রাখার জন্য বস্তা নিয়ে আসার কথা বলার জন্য বউমার ফোনে একাধীকবার ফোন দিয়েও কোন সারা না পেয়ে মাঠ থেকে বাড়ীতে এসে দেখতে পাই চুলার পারে বউমা বাসন্তীর শরীরে আগুন জলছে। এসময় প্রতিবেশীদের ডাক দিলে তারা দৌড়ে ছুটে আসে। কিন্তু ততক্ষণে বউমার শরীর পুরোটা আগুনে পুড়ে ঝলসে গেছে। তার ধারনা হয়তো চুলায় খড়ি দিয়ে ভাত গরম করার সময় আগুন ধরে পুড়ে মারা যেতে পারে।
বাসন্তী রাণীর ছোট বোন লক্ষীরাণী জানান, আমার বোনের ¯স্বামী উৎপল কুয়েতে থাকেন। কয়েক মাস আগে বাসন্তীর শাশুড়ী মারা গেছে। তিন বছরের এক কন্যা সন্তান আছে। ওই সন্তান নিয়ে শ^শুড়ের সাথে বাড়ীতে থাকতেন বাসন্তী। শ্বশুরের সাথে পারিবারিক নানান বিষয় নিয়ে বনি-বনা হচ্ছিল না। তাই অতিষ্ঠ হয়ে রোববার মোবাইল ফোনে জানায় তোমরা আমাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাও। অথচ আজ তার মরদেহ দেখছি। বাসন্তীর মামা গোপেস চন্দ্র জানান, আমার ভাগনী আগুনে পুরে মারা যায়নি। তাকে হত্যার পর আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়েছে। মানুষের শরীরে আগুন ধরলে নানান ভাবে বাঁচার চেষ্টা করে। অথচ যে ভাবে মরদেহ আগুনে দগ্ধ হয়ে পরে আছে তাতে বাঁচার জন্য বিন্দু মাত্র চেষ্টা করা বা ছটফট করার কোন আলামত আমি এসে দেখতে পাইনি। আমি এর সঠিক তদন্ত দাবি করছি। রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) বাবলু চন্দ্র পাল জানান, আগুনে দগ্ধ হয়ে পোড়া বাসন্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় একটি ইউডি মামলা প্রক্রিয়াধীন। কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা জানতে ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে। ময়না তদন্তের রির্পোট হাতে আসলেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।