বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার উত্তরে আত্রাই নদী এবং দক্ষিণে বারনই নদী। দুই নদীকে যুক্ত করেছে ফকিরনী নদী। ফকিরনী নদীতে রয়েছে ডজন খানেক সুইচগেট। বর্ষা মৌসুমে রাজশাহীর বাগমারার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে পানি পেতে গেটগুলা নির্মাণ করা হয়েছে। এলজিইডি'র তথ্য মতে উপজেলায় ছোট-বড় ৮১৬ টি ব্রিজ-কালভার্ট রয়েছে। কিন্তু শতাধিক ব্রিজ-কালভার্টের মুখ বন্ধ করে মাছ চাষ ও বাড়ি নির্মাণ করায় বন্যার পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাতে কোথাও তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা আবার কোথাও পানির অভাবে কৃষক পাট জাগ দিতে পারছেন না। পানি না পেয়ে অনুর্বর হয়ে পড়ছে কৃষি জমি।
বুধবার (৩০জুলাই) উপজেলার যোগীপাড়া, ঝিকরা, হামিরকুৎসা, গোয়ালকান্দি, মাড়িয়া, গোবিন্দপাড়া, গনিপুর, আউচপাড়া, বড়বিহানলি, শ্রীপুর এবং নরদাশ ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় শতাধিক ব্রীজের মুখ বন্ধ করে মাছ চাষ ও বাড়ি-দোকান ঘর নির্মাণ করতে দেখা গেছে। যোগীপাড়া ইউনিয়নের বীরকুৎসা গ্রামের হাটখোলা বাজারের পূর্ব পার্শ্বে ১ পেন বিশিষ্ট আরসিসি গার্ডার দিয়ে নির্মিত ব্রিজের মুখ বন্ধ করে মাছ চাষ করতে দেখা যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ পার্শ্ববতী নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার আনোয়ার মন্ডল নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই ব্রিজের মুখ বন্ধ করে মাছ চাষ করছেন। এছাড়াও একই গ্রামের রাজবাড়ী বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে অন্য আরেকটি ব্রিজের মুখ বন্ধ করে এক পার্শ্বে বীরকুৎসা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ জুলফিকার আলী (আলীম) পুকুর খনন করেছেন এবং আরেক পার্শ্বে মাটি কেটে ভরাট করে কামাল নামের একজনের বিরুদ্ধে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি ব্রীজ ২টির মুখ বন্ধ করার কারণে আত্রাই নদীর পানি তাদের এলাকায় ঢুকতে পারছে না। এতে পাট চাষীরা বিপাকে পড়েছেন। পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না।
গ্রামের সালাউদ্দিন বলেন, ব্রিজ দুটি বন্ধ করায় পানির স্বাভাবিক চলাচল ব্যহত হচ্ছে। ভরা মৌসুমেও আমাদের এলাকায় পানি ঢুকতে পারছে না। পানি না পেয়ে আমরা চরম বিপাকে রয়েছি। কৃষি জমি অনুর্বর হয়ে পড়ছে। গ্রামের সাধারন মানুষেরা দেশীয় মাছ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ব্রিজের মুখ বন্ধ করার বিষয়ে আনোয়ার বলেন, পুকুরটি আমি চাষ করি এটা ঠিক তবে আমি ব্রিজের মুখ বন্ধ করিনি। আমি যাদের কাছ থেকে লিজ নিয়েছি তারা এটি করেছে। কামাল বলেন, আগে পুকুর নির্মান হয়েছে পরে আমি মাটি কেটেছি। অধ্যক্ষ আলিমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
বাগমারা উপজেলার দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মমিন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বাগমারায় অনেক ব্রিজ-কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে প্রভাবশালীরা। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। এটি দেখার দায়িত্ব বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের(এলজিইডি)।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাজিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নয়। যারা ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ করেছে এটি তাদের বিষয়। তবে বিএমডিএ বাগমারা জোনের সহকারী প্রকৌশলী জি.এম.এফ হাসানুল ইসলাম বলেন, ব্রিজের মুখ বন্ধ করে মাছ চাষ এবং বাড়ি নির্মাণের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তার মতে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের।
এলজিইডি রাজশাহী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জহুরুল ইসলাম বলেন, শতাধিক না হলেও অনেক ব্রিজ-কালভার্টের মুখ বন্ধ হওয়ার কথা আমি জানি। তবে সেগুলা মুক্ত করা আমাদের একার পক্ষে সম্ভব না। আমাদের মূল কাজ হলো অবকাঠামো নির্মাণ করা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাগমারা এবার ১৫১০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। বন্যার পানি না আসায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে চাষীরা। তাছাড়া কৃষি জমি বন্যার পানির নিচে কিছুদিন ডুবে থাকলে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধের কারণে কৃষি জমির ক্ষতি হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি জানি। বাগমারায় অনেক জায়গায় এটি করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে আমি মচমইল গ্রামের একটি ব্রিজের মুখ খুলে দিয়েছিলাম। ১৫ দিন পরে সেটি আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। তবে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।